ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনে গবেষণার গুরুত্ব । ফাঁকিবাজ গবেষক

 গবেষণা বা রিসার্চ বলতে মূলত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে প্রাপ্ত তথ্য থেকে নতুন জ্ঞান আহরণকে বোঝায়। গবেষণা একজন ব্যক্তিকে তার ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনে ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকতে অবদান রাখে। পাশাপাশি, ব্যক্তি জীবনে বিভিন্ন গুণাবলি অর্জনে সাহায্য করে একজন মানুষের সর্বোপরি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একাডেমিয়াতে ক্যারিয়ার গড়ার সাথে যেকোনো কোম্পানির রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কাজ করার সুযোগ-শুধু এসব ক্ষেত্রেই গবেষণা আমাদের এগিয়ে রাখে না। যেকোনো বিষয়ের উপর গবেষণার কিছু ধাপ রয়েছে এবং এই ধাপগুলো বা পুরো গবেষণা প্রক্রিয়াটি কিছু ব্যক্তিগত গুণাবলির উৎকর্ষ সাধনে বড় রকমের সহায়তা করে।

সাধারণত গবেষণা করতে গেলে একজন ব্যক্তিকে প্রচুর তথ্য-উপাত্ত তথা ডেটা সংগ্রহ করতে হয় যা একটি গবেষণার প্রথম ও নিঃসন্দেহে এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ কারণ এর উপরেই গবেষণার ফলাফলের যথার্থতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তথ্য সংগ্রহ হতে পারে সরাসরি কোনো মাধ্যমে (কোশ্চেনিয়ার সার্ভে, ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন বা ফিল্ড অবজার্ভেশনের মাধ্যমে) অর্থাৎ প্রাইমারি ডেটা কালেশনের মাধ্যমে কিংবা পরোক্ষভাবে প্রাপ্ত তথ্য (কোনো জার্নাল, বই, খবরের কাগজ) ইত্যাদি থেকে নিয়ে অর্থাৎ সেকেন্ডারি ডেটা কালেকশনের মাধ্যমে। এই ডেটা কালেকশন করতে গিয়ে একজন মানুষের মধ্যে জীবনের সব ক্ষেত্রেই সূক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় যা অবশ্যই সার্বিকভাবে সফলতা অর্জনে সহায়তা করে।


গবেষণার দ্বিতীয় ধাপ হলো তথ্যের বিশ্লেষণ। বিশ্লেষণ বা অ্যানালাইসিস একজন মানুষের ধৈর্য্য শক্তি বাড়ায় কারণ পক্ষপাতবিহীন (আনবায়াসড) এবং যুক্তিযুক্ত ও যথাসম্ভব সঠিক ফলাফল অর্জনের জন্য একজন গবেষককে বহুসময় ধরে কাজ করতে হয় এবং ফলাফল অর্জনে ভুল হলে কোথায় ভুল সেটি বের করে বারবার চেষ্টা করে যেতে হয়। গবেষণা করতে গিয়ে এই স্বভাবটি আয়ত্ব করলে সে নিজের জীবনের সর্বক্ষেত্রে কাজে তা কাজে লাগাতে পারবে এবং এই গুণটি সেই মানুষের সময় নিয়ে যুক্তিযুক্ত চিন্তা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং এই সিদ্ধান্ত হয় ব্যক্তিগত পক্ষপাতবিহীন। একইসাথে, কোনো কাজে ব্যর্থ হলে ভুল খুঁজে তা সঠিকভাবে করার জন্যে লেগে থাকতে শিখে। সবমিলিয়ে এই প্রক্রিয়াটি ক্রিটিকাল থিংকিং (সমালোচনামূলক চিন্তা) করার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে যা যেকোনো মানুষকে প্রাত্যহিক জীবনের নানা ধরণের সমস্যা মোকাবেলার করার বিষয়ে আরোও কার্যকরী করে তুলবে।


শেষ ধাপের ক্ষেত্রে গবেষণায় কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনের পর সেটিকে প্রকাশের উপযোগী করে প্রবন্ধ লিখতে হয় যা এমন শব্দচয়নের মাধ্যমে লেখা উচিত যেন সাধারণ মানুষ পড়েও মূলভাব বুঝতে পারে। বিভিন্ন জার্গন ও টেকনিক্যাল মেথডের বনর্ণা দিলেও তা করতে হবে যথাসম্ভব সহজ ভাষায়। এতে বাস্তব জীবনের সমস্যা বা কোন বিষয় নিয়ে সাজানো ভাবে চিন্তা বা অর্গানাইজড ভাবে থট প্রসেসের ক্যাপাবিলিটি তৈরি হয়।

 শুধু পর্যবেক্ষণ বা লেগে থাকার মানসিকতা নয়, যোগাযোগের ক্ষমতা বা কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ে গবেষোণায়। জরিপ বা সার্ভে করার ক্ষেত্রে কোয়ালিটেটিভ ডেটা সংগ্রহের সময় সাধারণর মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, তাদের সহজ ভাষায় গবেষণার বিষয়বস্তু বুঝিয়ে বলত হয় যা অবশ্যই কথায় স্পষ্টতা এবং কোনো দুর্বোধ্য বিষয় সর্বসাধারণের বোধগম্য হয় সেভাবে উপস্থাপন করা অর্জনে সহায় হয়। একইভাবে, কোনো কনফারেসেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা করার (ওরাল প্রেজেন্টেশন) মধ্যে দিয়ে যে কথা স্পষ্টভাবে গুছিয়ে বলার দক্ষতা বাড়ে তা ব্যক্তিজীবনে মানুষের, ইফিশিয়েন্ট যোগাযোগের মাধ্যমে সাথে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করায়ও ভূমিকা রাখে।

সবশেষে বলা যায় যে, গবেষণা আসলে ব্যক্তিজীবনে আমাদের একটি বিষয়কে বিভিন্ন পার্স্পেক্টিভ বা আঙ্গিক থেকে দেখা, পর্যবেক্ষণ করা ও সমস্যা সমাধানে সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জনে হাত রাখে। আর তাই অবলীলায় বলা যায় যে, গবেষণা ক্যারিয়ার উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

Author: Rana Talukder, Geography And Environmental Studies, University of Chittagong.  

Comments