ভালো সাবজেক্ট, খারাপ সাবজেক্ট । সাবজেক্ট প্যারাডক্স

 

ভালো সাবজেক্ট, খারাপ সাবজেক্ট


কোন সাবজেক্ট বেশি ভালো? অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে অহেতুক মাথা ঘামিয়ে থাকেন। তবে তার আগে একটা প্রশ্ন থেকে যায় বাস্তবিক পক্ষে সাবজেক্ট কতটা গুরুত্ব বহন করে? ভালো সাবজেক্ট এ ভর্তি হলেই কি ভালো চাকরি? নাকি এই চাকরির পেছনে আরো অনেক গল্প থাকে। আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টেকনিক্যাল কিছু চাকরি ছাড়া বাকি সব চাকরিতে সবাই প্রতিযোগিতা করতে পারে। তাহলে আমরা যে মাঝে মাঝেই এই সাবজেক্ট খারাপ ঐ সাবজেক্ট ভালোর একটা ইন্ডিকেটর দাড় করায় সেটার কি হবে।

চাকরির বাজারে যাবার আগে একটু ভিন্নভাবে ভাবা প্রয়োজন হয় আমাদের। যেমন ধরেন অনেকেই প্রথমে ভাববে যে এই সাবজেক্ট পড়ে কি হবে। জব সেক্টরে তো এর কিছুই প্রয়োজন নেই। সত্যিকার অর্থেই হয়তো এই প্রয়োজনটা থাকে না। কিন্তু নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে নিজের সাবজেক্টে মোটামুটি একটা ধারনা থাকা প্রয়োজন। এটা পরবর্তীতে খুব দারুন ভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে থাকে। এই কারনে চাকরির সাথে একদম প্রথমেই নিজের সাবজেক্টকে মিলিয়ে ফেলা উচিৎ নয়। যেহেতু একটা নির্দিষ্ট সাবজেক্টের সার্টিফিকেট বিক্রি করেই আমাদের চাকরি করতে হবে, সেহেতু যত দ্রুত সম্ভব নিজের সাবজেক্ট কে ভালোবেসে ফেলা উচিত।

প্রশ্ন হলো যদি সাবজেক্টিভ জ্ঞান কাজেই না লাগে তাহলে কেন আমরা খামোখা পড়বো? সেক্ষেত্রে একটা জিনিস আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন যে আমরা ঠিক জানিনা যে আমাদের অর্জিত জ্ঞান কবে কোথায় কাজে লাগবে। একটু গভীর ভাবে ভেবে দেখতে হবে এই সব ক্ষেত্রে। আপনি দেখবেন প্রতিটা সাবজেক্ট এ কিছু অসাধারণ মানুষ থাকে যারা এই সাবজেক্ট কে প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন অমুক অর্থনীতিবিদ, তমুক পরিবেশবিদ ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হলো এই নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিই কি শুধু ঐ সাবজেক্ট গুলো পড়েছিলো। সোজাসাপটা উত্তর হচ্ছে, না। আসলে তারা সব অবস্থায় তাদের পড়ার বিষয়কে ধারন করেছিলো বলেই আজকের নামকরা ব্যক্তিতে পরিনত হয়েছে।

এবার অন্যভাবে ভাবুন। ধরুন আজকে আপনি আপনার স্নাতকের পড়ার বিষয়টা একদমই গুরুত্ব না দিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে গেলেন। আসলে সাফল্য কিন্তু এটা না। দেখবেন আজ থেকে ১৫/২০ বছর পরে ঐ বিষয়ের খুব স্পেশালাইজড ব্যক্তি প্রয়োজন হবে এবং তখন আপনার আমার কিছুই করার থাকবে না। কারন আপনার অন্য কোন সহকর্মী হয়তো আপনার সম পদমর্যাদায় থেকে তার সাবজেক্ট কে ধারন করেছে। এবং সম্ভভবত সে সব ক্ষেত্রে আপনার সহকর্মীকে উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হবে। তখন আসলে বুঝবেন সাফল্য কি!! এবং একটু খেয়াল করলেই আপনার সামনে এরকম অনেক উদাহরণই খুঁজে পাবেন।

ছোট করে যদি বলি একদম প্রথমেই নিজের সাবজেক্ট কে ভালোবাসার চেষ্টা করুন। এর পরে যুক্ত হবেন গবেষণায়। সত্যি কথা বলতে অর্জিত জ্ঞানকে সরাসরি কাজে লাগানোর জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। এবং আপনি সত্যিই যদি আপনার সাবজেক্টের বিষয়গুলোতে গবেষণা করার সুযোগ পেয়ে থাকেন তাহলেই বুঝবেন কতটা দারুন আপনার সাবজেক্ট।

আমরা প্রায় সময়ই ফলাফল কেন্দ্রিক হয়ে যায়। যার কারনে আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে আমরা আসলে কি পাবো। কিন্তু সামনের সুযোগকে কাজে লাগানোর মত প্রস্তুতি আমরা প্রায় সময়ই নিতে পারি না। ফিজিক্যাল ও স্বল্প মেয়াদি ফলাফলের দিকে আপনি ফোকাস করলে আপনার দীর্ঘমেয়াদি ও দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল হাতছাড়া হবে।

তাহলে করনীয় কি?

সহজ ভাষায় বললে কোন তুলনায় যাবেন না। আপনার হয়তো আপনার সাবজেক্টের স্কোপ সম্পর্কে জানার অধিকার আছে তবে সেটা যেন একটু ভাব নেয়ার জন্য বা নিজেকে বড় করে জাহির করা জন্য না হয়। সেটার উদ্দেশ্য যেন হয় নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার জন্য। দুনিয়ার প্রতিটা সাবজেক্ট ই প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি। সুতরাং কোন সাবজেক্টই গুরুত্বহীন বা কোন সাবজেক্ট এর তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আপনার সাবজেক্টের স্কোপ ঠিক ততটা, যতটা আপনি তৈরি করে নিতে পারবেন!!


--


Comments