নতুন গবেষকদের সমস্যা ও সমাধান | Challenges for early career researchers | How to become a researcher

আপনি যদি নতুন নতুন গবেষণা করে থাকেন তাহলে এটা ধরে নেয়া যায় যে আপনি টুকটাক কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবেন। আসলেই এই সমস্যাটা গবেষকদের দিক থেকে খুব একটা হয়ে থাকে না, সমস্যা হয় অন্যদের দিকে থেকে। সমস্যাটা যে দিক থেকেই আসুক না কেন, আমাদের গবেষনা তো আর থেমে থাকবে না। আর এ কারনেই আমরা এমন কিছু সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো যেটার সম্মুখীন  সম্ভবত আপনাকে হতে হবে। তো চলুন দেখে নেয়ে নেয়া যাক কি সেই সমস্যা গুলো এবং তাদের সম্ভাব্য সমাধান গুলো কি কি। 

 

১। একজন নতুন গবেষকের ক্ষেত্রে একদম প্রথম যে সমস্যাটা হয়ে থাকে সেটা হলো, গবেষনার শুরু শেষ খুঁজে না পাওয়া। অর্থাৎ, আমরা যখন গবেষণায় আগ্রহী বা কারো কাছ থেকে গবেষণা সম্পর্কে শুনে থাকি তখন একটু খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং বেশির ভাগ সময়ে সেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয় অনলাইনে। আসলে অনলাইনে কিছু আর্টিকেল পড়ে হয়ত গবেষণা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে গবেষণা শুরু করার জন্য যে ধরনের গাইড লাইন দরকার তার পুরোটা পাওয়া যায় না। আসল বিপত্তিটা শুরু হয় এখানে। 

গবেষণা শেখার জন্য একটা 'সঠিক' গাইডলাইন প্রয়োজন। 'সঠিক' এই কারনে বললাম কারন আমরা অনেকেই ঠিক গাইডলাইনটা পাইনা। কারণ গবেষনায় প্রতিটা ধাপ হাতেকলমে শিখে নিতে হয় এবং এটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। যেটা অনেক সুপারভাইজার তাদের ব্যস্ততার কারনেই দিয়ে উঠতে পারেন না। এখন প্রশ্ন হলো এটার সমাধান কি? এটার সমাধান ঐ একটাই। আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে সঠিক একজন মেন্টর বা সুপারভাইজার। প্রথমেই চেষ্টা করুন আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষককে খুঁজে বের করার। তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করুন। নিজের আগ্রহের কথা জানান। দেখবেন একটা সময়ে ঠিকই তিনি আপনার জন্য সময় বের করবেন। যদি কোন শিক্ষকের সাথে যুক্ত হতে না পারেন তাহলে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বড় ভাই/বোন কে খুঁজে বের করেন যারা গবেষণায় সম্পৃক্ত। তাদের সাথে যোগাযোগ রাখার চেস্টা করবেন। তাদের কাজ গুলোর সাথে সংযুক্ত হবার চেস্টা করুন। অনেক সময় আপনাকে একা হয়ত শেখাতে চাইবে না। সেক্ষেত্রে আপনি আরো দুই একজন বন্ধু বান্ধবী মিলে গবেষণার টুকটাক সম্পৃক্ত এরকম কারো সাথে কথা বলেন। তাছাড়া বর্তমানে অনেক অনলাইন ভিত্তিক কমিউনিটি আছে যারা গবেষনা শেখায়। সেটা হতে পারে পেইড বা আনপেইড। এরকম অনলাইন কমিউনিটি থেকেও আপনি একজন ভালো গাইড পেতে পারেন। 


২। যে কোন ভাবেই হোক আপনি একজন ভালো মেন্টর খুঁজে পেলেন। কিন্তু আসল বিপত্তিটা শুরু হবে এর পরেই আপনি যখন লেখালিখি শুরু করবেন। নতুন গবেষকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যটা খুব বেশিই দেখা যায়। সাধারন লেখালেখি আর গবেষণাপত্রের লেখালেখিতে বেশ কিছুটা পার্থক্য থাকে। সেখানে ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি আরো অনেক গুলো বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। এর সাথে ঠিকঠাক সাইটেশন ও রেফারেন্সিং এর মত বিষয়গুলো তো আছেই।  এবং নতুন গবেষকের প্রত্যেকেই কম বেশি এই সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়ে থাকেন। শুধুই মুখোমুখি হবেন সেটা না। এর ধারাবাহিকতা অনেক দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। তাহলে এক্ষেত্রে সমাধান কি? সমাধানের দিকে যদি যেতে হয় তাহলে আপনাকে প্রচুর গবেষণাপত্র পড়তে হবে। শুধু পড়লেই কি হবে? না হবে না!! পড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে বিভিন্ন গবেষণাপত্রের লেখার প্যাটার্ন বোঝা। অর্থাৎ একজন গবেষক তার গবেষণাপত্র কিভাবে সেন্টেন্স বা প্যারা সাজালেন সেটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিতে হবে। প্রথম দিকের গবেষক হিসেবে প্রতিটা সেকশনের পোস্টমর্টেম করতে হবে আপনাকে। একটা সেকশনে কোন কোন ধাপ গুলো ফলো করলেন। কেন এই ধাপ গুলো ফলো করা হলো। একটা সেন্টেন্স/প্যারা এর সাথে অন্য সেন্টেন্স/প্যারা কিভাবে লিংক করা হলো সেটা বুঝতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে আপনি কয়েকটা গবেষণাপত্র প্রিন্ট করে নিতে পারেন। পেন্সিল দিয়ে রিলেশন গুলো বের করার চেষ্টা করেন। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকলে গবেষণাপত্রের যেকোন সেকশন সম্পর্কে আপনার একটা খুব ভালো ধারণা তৈরি হবে এবং ধীরে ধীরে আপনার লেখার কোয়ালিটি বাড়তে থাকবে।

৩। এর পরের সমস্যায় আসি এবার। আপনি ভালো মেন্টর এবং ভালো লেখালেখির কোয়ালিটি অর্জন করার পরে আরো একটা অসুবিধা দেখা দিবে। সেটা হলো স্ট্যাটিস্টিক্যাল এনালাইসিস। গবেষনার প্রয়োজনে আপনাকে বেশ কিছু এনালাইসিস প্রয়োজন হবে। বেসিক এনালাইসিস গুলো হয়ত আপনি নিজেই করতে পারবেন। যেমন পার্সেন্টেজ, এভারেজ, স্টান্ডার্ড ডেভিয়েশন ইত্যাদি। কিন্তু যখনই একটু ভিন্ন ধরনের এনালাইসিসে যাবেন তখনই আসলে সমস্যাটা তৈরি হবে। এই সমস্যার অন্যতম কারন হলো আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে আমরা অনেকেই স্টাটিস্টিক্স এর তেমন কোন কোর্স পড়ি না। আর সিলেবাসে থাকলেও খুব সাবধানে পাশ করার জন্য পড়ি। আরো ভয়াবহ ব্যাপার হলো শুধু মাত্র একটা দুইটা কোর্স করে আপনি অন্তত প্রয়োজনীয় জ্ঞানটুকুও অর্জন করতে পারবেন না। সমাধান কি তাহলে? সমাধান একটাই। আপনাকে শিখতে হবে। যেভাবেই হোক। অন্তত একাডেমিক কোর্সে যেটা পড়ানো হয় সেটায় মনযোগী হতে হবে। নিজ থেকে পড়া শুরু করতে হবে স্টাটিস্টিক্স এর উপর। তাছাড়া সাধ্যমত বিভিন্ন অনলাইন অফলাইন কোর্স/সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে হবে। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে স্টাটিস্টিক্স এর কিছু সফটওয়্যার হ্যান্ডেল করতে পারেন মানেই আপনি স্টাটিস্টিক্স জানেন সেটা কিন্তু না। আপনাকে ডাটার ন্যাচার বোঝা, রিসার্স অবজেক্টিভ অনুযায়ী এপ্রোপ্রিয়েট মডেল দাঁড় করানো এবং এনালাইসিস এর পরে প্রাপ্ত রেজাল্ট বর্নণা করাও শিখতে হবে। সেক্ষেত্রেও সেই একই কথা। একজন ভালো সুপারভাইজার বা মেন্টর আপনাকে এদিক দিয়েও সাহায্য করতে পারবেন। কারন এত বিশাল একটা বিষয়ে আপনি ঠিক কোথা থেকে শুরু করবেন সেটা বের করা কঠিন। সেক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কিভাবে এগোবেন সেটা আপনাকে ঠিক করে দিবে আপনার মেন্টর বা সুপারভাইজার। অনেক সময় যদি কোন পার্টিকুলার বিষয়ে বুঝতে অসুবিধা হয় সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা ফোরামে প্রশ্ন করতে পারেন। সেখানের এক্সপার্ট মেম্বাররা আপনাকে সহযোগিতা করবে। 

আর হ্যাঁ। সব সময়ই যে আপনাকে এই বিষয়ে দক্ষ হতে হবে সেটা না। কারণ গবেষণা হচ্ছে গ্রুপে কাজ করার বিষয়। সেই গ্রুপে এমন কেউ হয়ত থাকবেন যিনি স্টাটিস্টিক্স এ এক্সপার্ট হবেন এবং উনি হয়ত এনালাইসিসে কন্ট্রিবিউট করবেন। তবে আপনি ব্যাক্তিগত ভাবে দক্ষ হলে অন্যের উপরে নির্ভরশীলতা এড়ানো যাবে। 

আপাতত আমরা এই কয়েকটা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলাম। আমাদের পরবর্তী পর্বে আরো বেশ কিছু সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করবো আশা করি। 

 

Comments

  1. লেখায় উচ্চারণগত কিছু ভূল আছে সেগুলা ঠিক করে নেবেন আশা করি

    ReplyDelete

Post a Comment