স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ টিপস | Tips for Getting Scholarships

 অনার্স লেভেলে আমাদের অনেকেরই ইচ্ছা থাকে দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে যাওয়া। অনেকে সেইভাবে নিজেকে তৈরিও করে থাকে। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনার্সের ভালো সিজিপিএ বা কয়েকটা রিসার্স পেপার সবসময় ভালো স্কলারশিপের নিশ্চয়তা দেয় না। আমার দেখা এমন অনেক ছেলে মেয়ে আছেন যাদের অনেক ভালো রেজাল্ট ও রিসার্স পেপার থাকা সত্ত্বেও স্কলারশিপ পেতে সময় লেগেছে। এক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে আগের থেকেই সচেতন থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। 



১। হাতে সময় রেখে এপ্লাই করুন

হাতে সময় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আবেদন করা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে স্কলারশিপ দেয়ার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট অংকের ফান্ডিং প্রতিবছর বরাদ্দ থাকে। যার কারনে যত দ্রুত আপনি আবেদন করবেন, তত বেশি আপনার স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। যদিও এটা সব সময় বা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই না,  তবুও যারা ইতোমধ্যে স্কলারশিপ পেয়েছেন তাদের বেশিরভাগই হাতে সময় রেখে আবেদন করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া প্রথম দিকে আবেদন করাটা আপনার নিয়মানুবর্তিতার বহিঃপ্রকাশও। 

২। সুযোগ গুলো খুঁজে নিতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে

যে কোন তথ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সোর্স হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে যাচ্ছেন,  সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটটি আপনাকে স্কলারশিপের তথ্য জানার ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে।  পাশাপাশি, ওয়েবসাইটেই আপনি স্কলারশিপ ছাড়াও অন্যান্য ফান্ডিং এবং আর্থিক বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া মেইলেও যোগাযোগ করে আপনি জেনে নিতে পারেন বিস্তারিত তথ্য। এভাবে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তথ্য খোঁজার সুবিধা হচ্ছে আপনি ভুল তথ্য পাবেন না। 


৩। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ভর না হওয়া

স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডিং এর উপর নির্ভর করা উচিত নয়। আরও কোথায় আপনার স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবে সেখানে রিসার্স বা টিচিং এসিসটেনশিপ পাবার সুযোগ কেমন, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশনের পরে অন্যান্য স্কলারশিপ পাওয়া কতটা সহজ সে সম্পর্কেও আগের থেকে  জেনে নিতে পারেন। অনলাইনে অনেক প্রোর্টাল আছে যারা বিভিন্ন স্কলারশিপের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে থাকে। সে সকল পোর্টালে নিয়মিত চোখ রাখুন। 

৪। এপ্লাই করার সময় সতর্ক থাকুন

যখন আপনি উপযুক্ত কোনো স্কলারশিপ এ আবেদনের সুযোগ পাবেন, সে সময় আবেদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। সময় নিয়ে তা পূরন করুন। কি-ওয়ার্ড খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিন। নিজের কাছে কোন কিছু দুর্বোধ্য মনে হলে এক্সপার্ট কারো সহযোগিতা নিন। প্রয়োজনে আবেদনের ক্ষেত্রে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন সেগুলো আগের থেকে নোট করে রাখুন। কাওকে পাশে রেখে এপ্লাই করলে ভুল হবার সম্ভাবনাও অনেক  কম থাকে। 

৫। অন্য কাউকে পড়তে দিন

একই কাজ নিজেরা বার বার করতে থাকলে আমাদের চোখ সাধারণত অনেক  কিছু এড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে গ্রামাটিকেল মিসটেক অথবা ভুল বানান ঠিক করার জন্য অন্য একজন আপনাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করবে। এছাড়াও গঠনমূলক সমালোচনা আপনার এপ্লিকেশনকে প্রসেসটা আরো ফলপ্রসূ করবে। তাই আবেদনের আগে অন্তত একজনকে দিয়ে হলেও সব কিছু ক্রসচেক করিয়ে নিন। 

৬। সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন

আপনি যদি একাধিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক হন তাহলে টাইম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  প্রতিটি আবেদনে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিন, ডেডলাইন গুলোকে ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখুন,  এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো সতর্কতার সাথে পাঠান। এপ্লিকেশনের সময় ধৈর্য্য ধরে এপ্লাই করুন এবং নিজের সময়কে এমন ভাবে কাজে লাগান যাতে করে প্রতিটি ডেডলাইনের আগেই আপনি আবেদন করতে পারেন৷ টাইম ম্যানেজমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ এই কারনে যে এমনও হতে পারে যে আবেদনের ঠিক আগে আপনি খেয়াল করবেন আপনার প্রয়োজনীয় সব ডকমুমেন্ট ঠিকঠাক নেই। 

৭। আবেদনের বিকল্প  নেই

সর্বোপরি, নিজের প্রতি আস্থাশীল হয়ে আবেদন করা শুরু করুন। আমরা সবাই জানি, স্কলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রচণ্ড  প্রতিযোগিতামূলক। সেক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং কোন ভাবেই হাল ছাড়লে চলবেনা। অনেক স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীর মতে, বাস্তবতা হলো,  কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়ার আগে বহু রিজেকশন লেটারের মুখোমুখি তারা হয়েছেন। আপনি কখনোই ধারনা করতে পারেন না কোন এপ্লিকেশনটি আপনাকে স্কলারশিপের সুযোগ এনে দিবে। তাই, ধৈর্য্য নিয়ে এপ্লাই করতে থাকুন সম্ভাব্য সবগুলো স্কলারশিপে। 


স্কলারশিপ পাবার বিষয়টা অনেকটা ধৈর্যের ও ভাগ্যের। সময় নিয়ে লেগে থাকাটাই এখানে জরুরি। এই কারনে নিজের উপর ভরসা রেখে অল্প অল্প করে এগোতে থাকুন। নিজের একাডেমিক প্রোফাইল অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে বের করুন। অলরেডি যারা স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরে আছেন তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা কররুন। তাদের কাছে থেকে আরো খুঁটিনাটি বিষয়ে জেনে তার পরে এগোতে থাকুন। শুধু মনে রাখতে হবে এপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে কোন ভুল করা যাবে না। একটা ভুলের কারনে আপনার একটা ভালো সুযোগ মিস হয়ে যেতে পারে। 

 

“Most importantly, don’t give up on your dreams.”


Comments

Post a Comment