গবেষণার ক্ষেত্রে
প্রথম এবং প্রধান উপাদান হচ্ছে ডেটা। এটা মোটামুটি সব এরিয়ার জন্য সমান ভাবে গুরত্বপূর্ণ
হলেও যারা সোস্যাল সাইন্সের গবেষণায় আগ্রহী তাদের তো ফিল্ড লেভেলের ডাটা ছাড়া কোন উপায়
নাই।
এখন প্রশ্ন হলো
ডাটা সংগ্রহ করা খুব সময় সাপেক্ষ এবং একই সাথে টাকা পয়সা প্রয়োজন। তাহলে উপায় কি?
যারা নতুন গবেষক
তাদের জন্য আজকে কয়েকটা ডাটা সোর্স বলে দিচ্ছি। এটা কিন্তু বড় বড় গবেষকদের জন্য প্রযোজ্য
নয়।
তার আগে কিছু কথা।
পরিসংখ্যানের ভাষায় ২৯ এর বেশি স্যাম্পল হলেই সেটা লার্জ স্যাম্পল। সুতরাং যারা আসলে
গবেষণা শেখার জন্য (শুধুমাত্র শেখার জন্য) শুরু করতে চাচ্ছেন তারা আপাতত টার্গেট রাখতে
পারে ৫০-৬০ স্যাম্পল। তবে আপনি যদি বেশি নিতে পারেন তাহলে কোন কথাই নাই। আর হ্যাঁ,
শুরুর দিকে চেষ্টা করবেন ছোটোখাটো বিষয়ে গবেষণা করতে। যেহেতু সোস্যাল সাইন্সের সাবজেক্ট
গুলো অনেক বড় এরিয়া কভার করে সেহেতু আপনি চাইলেই সহজ বিষয়ে শুরু করতে পারেন।
আর হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার মতামত জানাবেন আর্টিকেলের শেষের কমেন্টস সেকশনে।
এবার তাহলে জেনে
নেয়া যাক কোথায় পাবেন ডাটা।
#1 ক্যাম্পাসের বড় ভাই
আপনার ক্যাম্পাসের
মাস্টার্স পড়ুয়া বড় ভাইয়ের সাথে খাতির দিন। প্রয়োজনে বড় ভাইয়ের চা সিগারেটের ব্যবস্থা
করেন, বড় ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ডের খবর নেয়া থেকে শুরু করে ভাইয়ের মাথা বানায়ে দেয়া প্রয়োজন কিনা সেটার খবর নিন। এর পরে ভাই হাতে চলে আসলে একদিন খুব বিনীত ভাবে তার মাস্টার্স
থিসিসের অব্যবহারিত বা ব্যবহারিত ডাটা চেয়ে নিন। আপনার তো বেশি দরকার নাই। ৩০-৫০ টা
যা পান হাত পেতে নিন। বাকিটা লজিক্যাল টুলসের হিসাব নিকাশ। লজিক্যাল টুলস কি জিনিস
সেটা একদম শেষে পাবেন।
#2 আপনার ক্লাসমেট
মনে করেন আপনি
একটা গবেষণা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ইন্টারনেট ইউজের প্যাটার্ন বা ফুড
সিকিউরিটি স্ট্যাটাস কিংবা পারসেপশান এবাউট ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে। সেক্ষেত্রে স্যাম্পল
সাইজ যদি ৫০/৬০ টার্গেট হয় তাহলে তো আপনার ক্লাসের বন্ধু বান্ধবিই যথেষ্ট। তাছাড়া আপনি
যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকেন তাহলে আপনার ফ্লোরের ভাই ব্রাদার দিয়েই কাজ সেরে ফেলতে
পারবেন। আর যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়ে বান্ধবি (গার্লফ্রেন্ড)
থাকে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
#3 রিসার্স টিমে মানুষ রাখুন ৫ জন
এইটার কারন হচ্ছে
আপনার টিমে বা নির্দিষ্ট গবেষণায় মানুষ থাকে ৫ জন তাহলে নাকে তেল দিয়ে গববেষণা শুরু
করে দিন। এই ৫ জন তার বাবা, মা, ভাই, বোন, ভাবি, দুলাভাই, চাচাতো-খালাতো ভাই বোন থেকে
মাত্র ১০ টা করে স্যাম্পল নিলেও ৫০ টা স্যাম্পল পাবেন। আমি অনেককেই দেখেছি এই টেকনিক
এপ্লাই করতে। তাহলে আপনি বাদ যাবেন কেন?
4# ১০০০ টাকা বাজেট
ধরেন বড় ভাইকে দিয়ে কাজ হলো না। এদিকে আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই, আবার বন্ধু বান্ধব চিট করলো। সেক্ষেত্রে চিন্তিত হবার কারন নাই। গুগল ফর্মে প্রশ্ন রেডি করে ১০০০ টাকায় দুইটা ইয়ারফোন জেতার ঘোষণা দিয়ে দিন। অর্থাৎ ফর্ম যারা ফিলাপ করবে তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে দুজনকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। দেখবেন, আপনার প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যাম্পল হেঁটে আপনার হাতে চলে আসবে!
এবার আসি যখন আপনার কিছুই করার নাই তখন কি করবেন,
#5 লজিক্যাল টুলস
এইটা মারাত্মক
ভয়ঙ্কর একটা জিনিস। আপনার যত মেধা, মননশীলতা, সৃজনশীলতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা আছে সব কিছুর
ব্যবহার এখানে। সহজ করে যদি বলি তাহলে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ডেটা তৈরি করা। যেমন
ধরেন ইন্টারনেট ইউজের কথা। আমি আপনি কিন্তু জানি যে আমাদের বন্ধু বান্ধব প্রতিদিন কত
সময় ইন্টারনেট ইউজ করে। সোস্যাল মিডিয়ায় আনুমানিক কত সময় থাকে, ভিপিএন ইউজ করে কিনা,
কোন পারপাসে ইউজ করে বা এরকম অনেক কিছু। আপনি যদি শুধুমাত্র শেখার জন্য গবেষণা করতে
চান তাহলে বিপদে পড়ে এই টুলস ব্যবহার করতে পারেন। আমার নিজের দেখা এমন মানুষ আছেন যিনি
কিনা কোন স্যাম্পল না নিয়েই বিশাল গবেষণা করে সেটাকে আবার খুব ভালো জার্নালে পাবলিশ
করে বিশাল পলিসি রিকমেন্ড করেছেন। যদিও তারা খুব জ্ঞানী লোক, তবে বিপদে পড়ে তো আমরাও
ইউজ করতে পারি এই টুলস।
আসলে আমাদের লেভেলে থেকে বিশেষ করে যারা স্নাতক পর্যায়ে গবেষণা করতে আগ্রহী তাদের জন্য টাকা পয়সা খরচ করা খুব কঠিন। তাছাড়া দূরে কোথাও গিয়ে স্যাম্পল নেয়া আরো কঠিন। এই কারনেই এই সহজ উপায়গুলো। তবে এগুলোর কোনটাই রিকমেনডেড না। নিতান্তই শিখতে আগ্রহী কিন্তু ডাটা সংগ্রহ করতে পারছেন না তাদের জন্য এই সমাধান।
Comments
Post a Comment